রাহুল সাংকৃত্যায়ন

রাহুল সাংকৃত্যায়ন বা কেদারনাথ পাণ্ডে (১৮৯৩ – ১৯৬৩) ছিলেন ভারতের একজন বিখ্যাত ও জ্ঞানী পর্যটক। তিনি তার জীবনের ৪৫ বছর ব্যয় করেছেন বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করে। তাকে মহাপন্ডিত উপাধি দেয়া হয়।তার জন্ম ১৮৯৩ সালে, সনাতন হিন্দু ভূমিহার ব্রাহ্মণ পরিবারে। জন্মস্থান উত্তর প্রদেশের আজমগড়ের একটি ছোট্ট গ্রাম। তার আসল নাম ছিল কেদারনাথ পাণ্ডে। ছোটোবেলাতেই তিনি মাকে হারান। তার পিতা গোবর্ধণ পান্ডে ছিলেন একজন কৃষক। বাল্যে একটি গ্রাম্য পাঠশালায় ভর্তি হয়েছিলেন। আর এটিই ছিলো তার জীবনে একমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। এখানে তিনি উর্দু ও সংস্কৃতের উপর প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন।

জালিওয়ানওয়ালা বাগের হত্যাকান্ড (১৯১৯) তাকে একজন শক্তিশালী জাতিয়তাবাদী কর্মীতে রুপান্তরিত করে। এ সময় ইংরেজ বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে তাকে আটক করা হয় এবং তিন বছরের কারাদন্ড ভোগ করতে হয়। এ সময়টিতে তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ সংস্কৃতে অনুবাদ করেন। পালি ও সিংহল ভাষা শিখে তিনি মূল বৌদ্ধ গ্রন্থগুলো পড়া শুরু করেন। এ সময় তিনি বৌদ্ধ ধর্ম দ্বারা আকৃষ্ট হন এবং নিজ নাম পরিবর্তন করে রাখেন রাহুল (বুদ্ধের পুত্রের নামানুসারে) সাংকৃত্যায়ন (আত্তীকরণ করে যে)।

জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি বিহারে চলে যান এবং ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ (পরবর্তীতে স্বাধীন ভারতের প্রেসিডেন্ট)-এর সাথে কাজ করা শুরু করেন। তিনি গান্ধিজীর আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন এবং এসময় তিনি গান্ধীজী প্রণীত কর্মসূচীতে যোগদান করেন। যদিও তার কোনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ছিলো না, তবুও তার অসাধারণ পান্ডিত্যের জন্য রাশিয়ায় থাকাকালীন লেনিনগ্রাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে শিক্ষকতার অনুরোধ করা হয়। তিনি তা গ্রহণ করেছিলেন। ভারতে এসে তিনি ডঃ কমলা নামক একজন ভারতীয় নেপালি মহিলা কে বিয়ে করেন। তাদের দুই সন্তান হয়, কন্যা জয়া ও পুত্র জিৎ। পরে শ্রীলংকায় (তৎকালীন সিংহল) বিদ্যালঙ্কার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এখানে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দার্জিলিং এ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।শ্রীলঙ্কায় তিনি ডায়বেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। তার একটি মাইল্ড স্ট্রোক হয়। পরে তিনি স্মৃতিশক্তিও হারিয়ে ফেলেন। ১৯৬৩ সালের ১৪ই এপ্রিল দার্জিলিং এ রাহুল সাংকৃত্যায়ন মৃত্যু বরণ করেন।

সম্পর্কিত আরো পোস্ট পড়ুন!



One Responseto “প্রেমের তুলনা”

  1. Bijoy K. Kar says:

    Its a good job. Thanks for your(s) effort.
    If possible please provid two pdf-”Uttar Fulgani” and “Hospital” wrote by Dr.Nehir Ranjan Gupta.
    Once again-Thanks.

    Bijoy.

Leave a Reply